বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষ, আতঙ্কে পলাশবাড়ী
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি পানহাটির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ছোট শিমুলতলা পানহাটিতে এ সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পানহাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পানহাটি-সংলগ্ন পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়েছে। তাদের হাতে হাসুয়া, বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওতে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানও শোনা যায়। এ সময় পানহাটির দুটি গাছ কেটে ফেলা এবং কয়েকটি পানের দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ছোট শিমুলতলা পানহাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। এর আগে গত ২০ মে একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন পৌর জামায়াতের অফিস সম্পাদক সামিউল ইসলাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি মারা যান।
সামিউলের মৃত্যুর জন্য জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিএনপিকে দায়ী করলেও এ ঘটনায় পৃথক কোনো নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ২০ মে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পলাশবাড়ী থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনায় হাট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বলেন, সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।




