পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগে স্বেচ্ছায় অবসরে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর খান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন করেছেন। পদোন্নতি বঞ্চনা ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এ আবেদন জমা দেন।
আবেদনপত্রে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের পর থেকে তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি জানান, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে চাকরিচ্যুত করা হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি পুনর্বহাল হন এবং পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।
আবেদনে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণেই তিনি চাকরিতে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত পদোন্নতির তালিকায় নিজের নাম না থাকায় তিনি আবারও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার অবসর কার্যকর করার পাশাপাশি ওই তারিখ থেকে এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুরেরও আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পত্রে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী তার স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ ও এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আলী আকবর খানের এই সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন তার অবসরের আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।




