মুক্তি পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
মুক্তি পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম জামিন পেয়েছেন।
রবিবার (২১ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজিম আল মিসবাহ।
আইনজীবী তানজিম আল মিসবাহ জানান, মামলাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে দায়ের হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুন বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন অভিযোগ করেন, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য ছড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস এবং জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসানসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে বগুড়া সদর থানা মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় রেকর্ড করে তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
রেজানুর ইসলামের জামিনের মাধ্যমে মামলাটি নতুন মোড় নিলেও এর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




