কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গণপিটুনিতে নিহত, এলাকায় চাঞ্চল্য
তিতাস উপজেলা-এ চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সোমবার রাতে আব্দুল লতিফ একটি বিদেশি পিস্তল নিয়ে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করার চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাঁকে ধরে ফেলে। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণপিটুনি দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পিস্তল ও দুটি গুলি উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল লতিফকে পুলিশি নিরাপত্তায় Titas Upazila Health Complex-এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিল। তবে পথেই রাত ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ও যুবলীগ নেতা মো. জহিরুল ইসলাম জহিরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া।
স্থানীয়দের অনেকেই ধারণা করছেন, পুরোনো সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশ এখনো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈনুল হক জানান, রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করেছে বলে জানতে পারে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি নতুন করে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।




