ব্রেকিং নিউজ
চীনা বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিলেন তারেক রহমান: ‘বাংলাদেশ হবে এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়’ দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষকের মর্যাদায় আঘাত: শ্রেণিকক্ষে নারী শিক্ষককে মারধর, ক্ষোভে বিদ্যালয় ছাড়ার ঘোষণা টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এক ঘোষণায় নিভে গেল হাজারো স্বপ্ন: আল-মুসলিম গ্রুপে ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

সাভার প্রতিনিধি :

 ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন হাজারো পোশাকশ্রমিক। কেউ সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিয়েছেন, কেউ বাবা-মায়ের জন্য উপহার নিয়েছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছেন। কিন্তু ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তাদের অনেকের জন্য অপেক্ষা করছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংবাদ—চাকরি আর নেই।
সাভারের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে একযোগে ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও শ্রমিকদের অভিযোগ, যথাযথ নোটিশ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
শনিবার সকালে কারখানার ফটকের সামনে ভিড় জমাতে দেখা যায় অসংখ্য শ্রমিককে। কেউ দেয়ালে টাঙানো তালিকায় নিজের নাম খুঁজছেন, কেউ হতাশ হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকের চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা।
শ্রমিক সাব্বির হোসেন জানান, ঈদের আগে তারা নিয়মিত কাজ করেছেন, এমনকি অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু ছুটি শেষে এসে জানতে পারেন তার চাকরি নেই। তিনি বলেন, “কাজ না থাকলে আমাদের এত ওভারটাইম করানো হলো কেন? কোনো নোটিশও পাইনি।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন শ্রমিক নাজমা আক্তার। তিন বছর ধরে কাজ করা এই নারী শ্রমিক জানান, ঈদের ছুটি কাটিয়ে সকালে কারখানায় প্রবেশের সময় তার পরিচয়পত্র নিয়ে নেওয়া হয় এবং বলা হয় চাকরি নেই। পরে মোবাইলে কোনো বার্তাও খুঁজে পাননি তিনি।
এই ছাঁটাই শুধু শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় দুই হাজার পরিবারের জীবিকা। একজন শ্রমিকের আয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে তার সন্তান, বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা মনে করেন, শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন চাকরি পাওয়া অনেক শ্রমিকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, তাদের জন্য হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে আইনগত ব্যাখ্যার বাইরে মানবিক প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—ঈদের আনন্দ শেষে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া এসব শ্রমিকের আগামী দিন কীভাবে কাটবে? সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা, বাড়িভাড়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কীভাবে মেটানো হবে?
কারখানার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক শ্রমিকের চোখের ভাষা যেন একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিল—‘এখন আমরা কোথায় যাব?’
ঈদের পর আনন্দের বদলে অনিশ্চয়তা, স্বপ্নের বদলে দুশ্চিন্তা আর কর্মসংস্থানের বদলে বেকারত্ব—সাভারের ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিকের জীবনে এভাবেই নেমে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।