ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রস্তুত ফিল্ড হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সোসাইটি অব মেডিসিন চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এ কার্যক্রমে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাও সহায়তা করছে। বুধবার থেকেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকার বাইরে দেশের সাতটি বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিনই কিছুসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিলম্ব না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট, টেস্টিং কিট, ফ্লুইড স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ইতোমধ্যে মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর উৎস নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগেই এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এ এইচ এম মইনুল আহসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




