চার বিশ্বকাপের অভিজাত ক্লাবে নেইমার, ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের পাশে নতুন ইতিহাস
ক্রীড়া ডেস্ক :
২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার Neymar। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, ইনজুরি এবং কোচ Carlo Ancelottiর অধীনে দলে অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, এবারের বিশ্বকাপে হয়তো দেখা যাবে না তাকে। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
এবারের বিশ্বকাপ নেইমারের ক্যারিয়ারে এক বিশেষ মাইলফলক। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলতে যাচ্ছেন তিনি। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের অভিজাত তালিকায় নাম লেখালেন নেইমার। এই কীর্তি গড়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের সংখ্যা এখন আট।
পেলের পাশে নেইমার
চার বিশ্বকাপ খেলা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিদের তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম Pelé। ফুটবলের রাজা নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে খেলেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমন জানান তিনি। ১৯৭০ সালে ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে ব্রাজিলকে তৃতীয় শিরোপা এনে দেন।
দালমা সান্তোস: রক্ষণভাগের নির্ভরতার প্রতীক
Djalma Santos ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক। ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। পুরো ক্যারিয়ারে কখনো লাল কার্ড না দেখার বিরল রেকর্ড রয়েছে তার। ফিফাও তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কাস্তিলহো: বেঞ্চেই থেকেও কিংবদন্তি
Castilho ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। যদিও বেশিরভাগ সময়ই ব্যাকআপ গোলরক্ষক ছিলেন, তবুও ব্রাজিল ফুটবলে তার অবদান অনস্বীকার্য। ফ্লুমিনেন্সের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রয়েছে তার।
নিলতন সান্তোস: সর্বকালের সেরা লেফটব্যাকদের একজন
Nilton Santos ১৯৫০ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। আক্রমণাত্মক লেফটব্যাক হিসেবে তিনি ফুটবলে নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। ফিফা তাকে সর্বকালের সেরা লেফটব্যাকদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
লেয়াও: চার বিশ্বকাপের গোলরক্ষক
Emerson Leão ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে ছিলেন। ১৯৭০ সালে তরুণ ব্যাকআপ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান। পরে দুই আসরে ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হন।
কাফু: টানা তিন ফাইনালের ইতিহাস
Cafu শুধু চারটি বিশ্বকাপই খেলেননি, টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালেও মাঠে নেমেছেন—১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে। ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এটি এখনো অনন্য রেকর্ড।
রোনালদো: বিশ্বকাপের মহাতারকা
Ronaldo Nazário ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০০২ বিশ্বকাপে তার ৮ গোল ব্রাজিলকে পঞ্চম শিরোপা এনে দেয়। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও ছিল তার দখলে।
নেইমারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
Neymar এখন শুধু চার বিশ্বকাপ খেলার কীর্তিতেই থেমে থাকতে চান না। ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি মাঠে নামবেন ২০২৬ বিশ্বকাপে। ইনজুরি ও সমালোচনার কঠিন সময় পার করে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন এই তারকা। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাসের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখানোর পর তিনি ব্রাজিলকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারেন।




