বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আহ্বান
ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও খনিজ খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি আধুনিক ও পারস্পরিক লাভজনক মুক্তবাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে উভয় দেশই বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপ ও বিনিয়োগ সুযোগ সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পেট্রোলিয়াম খাতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথর উত্তোলন, এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy Transition) খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।




