ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement



 ক্রীড়া ডেস্ক :

 ফুটবল ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—একটি যুগের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বয়স তখন ৩৯ ছুঁইছুঁই, তবু তাঁর চোখে এখনও একই ক্ষুধা, একই স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপটি হতে পারে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বমঞ্চ, আবার এটিই হতে পারে রেকর্ড বই নতুন করে লেখার গল্প।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণের রেকর্ডে এতদিন মেসি ছিলেন যৌথভাবে শীর্ষে। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। একই কীর্তি রয়েছে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস, ইতালির জিয়ানলুইজি বুফন, মেক্সিকোর রাফায়েল মার্কেস ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, আর পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই মেসির বিশ্বকাপ সংখ্যা হবে ছয়—যা তাঁকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায়। রোনালদোও যদি খেলেন, তাহলে এই রেকর্ড ভাগ হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতোমধ্যেই মেসির দখলে। পাঁচ আসরে তিনি খেলেছেন ২৬ ম্যাচ। তাঁর পেছনে আছেন ম্যাথাউস (২৫), মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪) ও পাওলো মালদিনি (২৩)। নতুন ফরম্যাটে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে আরও আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন মেসি। সেক্ষেত্রে তাঁর ম্যাচসংখ্যা পৌঁছে যেতে পারে ৩৪-এ—যা ভবিষ্যতে ভাঙা যে কোনো ফুটবলারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
শুধু ম্যাচ নয়, মাঠে কাটানো সময়েও সবার ওপরে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যেই খেলেছেন ২ হাজার ৩০০ মিনিটের বেশি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
গোলের রেকর্ডেও মেসির সামনে রয়েছে বড় সুযোগ। পাঁচ বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ১৩। ফ্রান্সের কিংবদন্তি জ্যুস্ত ফন্তেইনের সঙ্গে যৌথভাবে আছেন চতুর্থ স্থানে। সামনে আছেন শুধু তিনজন—জার্মানির গার্ড মুলার (১৪), ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি যদি নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তাহলে এই রেকর্ডগুলো একে একে ভেঙে দেওয়াও অসম্ভব নয়।
অ্যাসিস্টের তালিকাতেও ইতিহাসের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাঁর অ্যাসিস্ট ৮টি। আর মাত্র দুটি অ্যাসিস্ট করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের ১০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতায়ও যে তিনি সেরাদের একজন, সেটি নতুন করে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন মেসি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা পূরণ করেছিলেন মেসি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য শুধুই আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি হতে পারে নিজের কিংবদন্তিকে আরও অমর করে তোলার শেষ অধ্যায়। ফুটবলপ্রেমীরা তাই অপেক্ষায়—আরও একবার মেসির পায়ে জাদু দেখার, আরও একবার ইতিহাসকে নতুনভাবে লেখা দেখার।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।