অনুমোদন ছাড়াই মাসের পর মাস ইতালিতে শিক্ষিকা: নিচ্ছেন নিয়মিত বেতন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পাঁচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একাধিকবার ইতালি ভ্রমণ এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হামিদা আক্তারের স্বামী ও দুই সন্তান ইতালিতে বসবাস করেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি এক মাসের ছুটি নিয়ে ইতালি যান। পরে বিভিন্ন সময়ে ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেন এবং অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত মেডিকেল ছুটিও চান। এসব ছুটির মাধ্যমে তিনি মোট প্রায় ২০০ কার্যদিবস বিদেশে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে হামিদা আক্তারের ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিদেশ ভ্রমণের জন্য মহাপরিচালকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর হামিদা আক্তারের পূর্ববর্তী বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পাননি। চলতি বছরেও অনুমোদন ছাড়া ইতালি ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে হামিদা আক্তার বলেন, তিনি সাংবাদিকদের কাছে নয়, প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেবেন।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।




