অক্টোবরে স্থানীয় সরকার ভোটের প্রস্তুতি, আগস্টের শেষেই তফসিল দিতে চায় ইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি জুন মাসের মধ্যেই নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করে আগামী আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া মাত্র নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে বলা হয়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় অক্টোবরে প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগস্টের শেষ সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে কমিশনের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি আরও কিছুটা পিছিয়েও যেতে পারে। তাদের মতে, বর্তমানে কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে অক্টোবরে ভোট আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে যে সময়সূচি দেবে, তার ওপরই তফসিল ঘোষণার বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ দিকে তফসিল এবং অক্টোবরে ভোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যদি অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়, তাহলে অন্তত দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই কমিশন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
অপরদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, জুন ও জুলাইয়ের মধ্যেই নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভোট গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বেশি সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের যে মান অর্জিত হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তার চেয়েও উন্নত মানে আয়োজন করতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন এবং সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজও চলছে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, ৩০০টির বেশি পৌরসভা এবং ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো আইনগত বাধা নেই। এছাড়া প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। আরও প্রায় ২ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের আইনগত সময়সীমার গণনা আগামী জুলাই থেকে শুরু হবে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এখন প্রস্তুতির শেষ ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার দিকে জোর দিচ্ছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।




