“অ্যাম্বুলেন্স নেই, ডাক্তার নেই—তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় সংকটের গভীর চিত্র”
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি হলো নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সেই সেবা এখনও নানা সংকটে জর্জরিত। সাম্প্রতিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে উঠে এসেছে এমন কিছু চিত্র, যা শুধু উদ্বেগজনক নয়—বরং আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বল ভিত্তিরই প্রতিফলন।
জেলা প্রশাসকরা সরাসরি তুলে ধরেছেন জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতির বিষয়টি। অনেক ক্ষেত্রে রাতের বেলায় গুরুতর অসুস্থ রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ে অসংখ্য জীবন। একটি জরুরি সেবা যখন প্রয়োজনের মুহূর্তে অনুপস্থিত থাকে, তখন সেটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—মানবিক বিপর্যয়ও বটে।
এর পাশাপাশি সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি। হাসপাতাল আছে, অবকাঠামো আছে—কিন্তু চিকিৎসক না থাকলে সেই হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে এই সমস্যা আরও প্রকট। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা অনেকের পক্ষেই ব্যয়বহুল ও অসাধ্য।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের হিসাব নিয়ে গরমিলের অভিযোগও উঠে এসেছে। কোথাও ওষুধ নেই, কোথাও আছে কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা বিতরণ হচ্ছে না। এই অনিয়ম কেবল রোগীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও কমিয়ে দেয়।
এসব সমস্যার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে তদারকি বাড়ানো হবে। অপচিকিৎসা, দালালি, ভেজাল ওষুধ এবং ভুল রেফারেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এ ধরনের ঘোষণা কতটা বাস্তবে রূপ পাবে? অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সমস্যার স্বীকৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী না হলে উন্নয়নের বড় বড় অগ্রগতি সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
স্বাস্থ্য খাতের এই সংকট কাটাতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার সমন্বয়। কারণ, একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার প্রতিটি নাগরিক সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পায়।




