ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

তোফায়েল আহমেদ: স্বাধীনতার সূর্যসন্তান, ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

গাজী তুষার আহমেদ :

 “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!”

AdvertisementAdvertisement

“তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা!”
“তোমার বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর!”
এই স্লোগানগুলো শুধু শব্দ ছিল না; ছিল একটি জাতির মুক্তির অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকারের অগ্রসৈনিকদের অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির জাগরণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে যে কজন নেতার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করতে হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নাম তোফায়েল আহমেদ।
১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে যখন পূর্ব বাংলার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছিল, তখন ছাত্রসমাজ হয়ে ওঠে আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি। সেই ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি শুধু একজন ছাত্রনেতা ছিলেন না; ছিলেন বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের একজন সাহসী সংগঠক।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম বৃহৎ গণজাগরণ। রাজপথ তখন উত্তাল। ছাত্র-জনতার মিছিলে মুখরিত ছিল ঢাকা। সেদিনের আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে তোফায়েল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্ব, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। সেই মুহূর্তে উচ্চারিত “বঙ্গবন্ধু” নামটি পরবর্তীকালে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের চিরন্তন প্রতীকে পরিণত হয়।
\\\\\\\"তোমার নেতা, আমার নেতা—শেখ মুজিব, শেখ মুজিব!\\\\\\\"
এই স্লোগানে মুখরিত হয়েছিল সেদিনের জনসমুদ্র, আর সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্বাপর সময়েও তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই দিনগুলোতে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত রাখা, আন্দোলনের গতি ধরে রাখা এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যখন সমগ্র জাতি স্বাধীনতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। সেই কঠিন সময়ে তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতার পক্ষে দেশ-বিদেশে জনমত গঠন, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
“বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর!”
এই আহ্বান তখন শুধু যোদ্ধাদের নয়, সমগ্র জাতির চেতনায় আগুন জ্বালিয়েছিল। সেই আগুনের অন্যতম প্রজ্বলক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
স্বাধীনতার পরও তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্পষ্টভাষী নেতৃত্ব তাকে সমসাময়িক রাজনীতিতে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
তোফায়েল আহমেদের জীবন কেবল একজন রাজনীতিবিদের জীবন নয়; এটি বাংলাদেশের জন্ম, সংগ্রাম ও বিকাশের জীবন্ত ইতিহাস। তিনি ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দেখেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার আন্দোলন সংগঠিত করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ের অংশীদার হয়েছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী থেকেছেন।
আজ তিনি নেই। কিন্তু ইতিহাসের পাতায়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের কাহিনিতে এবং বাঙালির জাতীয় চেতনায় তার নাম অম্লান হয়ে থাকবে।
কারণ কিছু মানুষ শুধু রাজনীতি করেন না, তারা ইতিহাস হয়ে যান। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন তেমনই একজন ইতিহাসের মানুষ।
জয় বাংলা!
জয় বঙ্গবন্ধু!
বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, তোফায়েল আহমেদের অবদান ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

তথ্য সূত্র : শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।