সরকার-ব্যবসায়ী সমন্বয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা: মোঃ এজাজ সাহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
- দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূলত নির্ভর করে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর। তাই ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের সহযোগিতামূলক মনোভাব একটি দেশের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট এমন একটি নীতি কাঠামো তৈরি করে যেখানে করহার যৌক্তিক থাকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) সহজে ঋণ সুবিধা পান এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত থাকে। এতে দেশে নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা গড়ে ওঠে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং বেকারত্ব হ্রাস করে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের যদি হয়রানিমুক্ত পরিবেশ দেওয়া হয়, তাহলে তারা আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হন। দুর্নীতি ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কমালে ব্যবসার গতি বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের উৎপাদন বাড়ে, রপ্তানি শক্তিশালী হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও উন্নত হয়।
সরকার যদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখে এবং তাদের সমস্যাগুলো শুনে বাস্তবসম্মত সমাধান দেয়, তাহলে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। এই আস্থা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যদি সহজ শর্তে ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ পান, তাহলে তারা বড় উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।
সবশেষে বলা যায়, একটি দেশ তখনই দ্রুত এগিয়ে যায় যখন সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজ একসঙ্গে কাজ করে। ব্যবসাবান্ধব বাজেট, ন্যায্য করনীতি এবং সহযোগিতামূলক প্রশাসন—এই তিনটি উপাদান একত্রিত হলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।




