বর্তমান সরকার ড. ইউনূসকে রাজকীয় খালাস দিচ্ছে : আনিস আলমগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক :
িসনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে “রাজকীয় খালাস” দিচ্ছে এবং বিভিন্ন অভিযোগ থেকে তাকে কার্যত দায়মুক্ত রাখা হচ্ছে।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পর তিনি একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার বিপরীত চিত্র।
আনিস আলমগীর বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অনেককে ঢালাওভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি হাম ও রুবেলা টিকা সময়মতো আমদানি না করার অভিযোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায় নিরূপণের দাবিতে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছিল। ওই মামলায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার নামও উল্লেখ করা হয় বলে দাবি করা হয়। তবে আদালত শুনানি শেষে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি টিকা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এর দায় কার ওপর বর্তাবে—সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নাকি পুরো ব্যবস্থাপনা কাঠামোর ওপর?
তার মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অভিযোগ খারিজ হয়ে যাওয়ায় জনমনে জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “সবাই যদি দায়মুক্তি পেয়ে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কোথায় দাঁড়ায়?”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, আদালতের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে কীভাবে এগোবে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে মনে করেন, আদালতে কোনো মামলা খারিজ হওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা বা মিথ্যতা নির্ধারণ নয়; বরং পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি বা প্রক্রিয়াগত শর্ত পূরণ না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে এ ধরনের বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আনিস আলমগীরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জবাবদিহি, দায়মুক্তি এবং আইনের শাসন—এই তিনটি বিষয়ই কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।




