সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ক্যাম্পে গুলি, যৌথ বাহিনীর অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাবের একটি ক্যাম্প লক্ষ্য করে গভীর রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। র্যাবের দাবি, সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়েছেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়।
র্যাব–৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান রাত সাড়ে তিনটার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় জানান, জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। পরে র্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়। বর্তমানে এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত পাশ দিয়ে পাহাড়ি সড়ক ধরে প্রবেশ করতে হয় সলিমপুর এলাকায়। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর—দুই অংশে বিভক্ত এ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হন পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা।
৯ মার্চের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।




