সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু
সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন মৌলভীবাজার সদরের বাসিন্দা সজল মিয়ার সাত মাস বয়সী ছেলে সায়হান। সে মৌলভীবাজারের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্যদিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা উজ্জলের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আহিয়ান সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু এবং তাদের একটি বড় অংশের টিকাদান সম্পন্ন হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে নতুন করে আরও ৬৯ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৩২৭ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭২ জন। সব মিলিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোগের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এনে পূর্ণ ডোজ টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।




