শিউলির মায়ের স্মৃতিতে উৎসর্গ, নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক :
গোয়ার মারগাওয়ে অবস্থিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম-এ আবেগ, লড়াই ও নাটকীয়তার এক অনন্য ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এই জয় সতীর্থ শিউলি আজিমের প্রয়াত মায়ের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন ম্যাচসেরা ঋতুপর্ণা চাকমা।
মঙ্গলবার ভোরে কিডনি জটিলতায় মারা যান শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিম। গোয়ায় অবস্থানরত শিউলি ও পুরো বাংলাদেশ দল সেই দুঃসংবাদে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় থেকে সরে আসেনি। ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুব কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। এই জয় আমরা আমাদের সতীর্থ শিউলি দিদির মাকে উৎসর্গ করেছি। পাশাপাশি দেশের সকল মানুষের জন্যও এই জয় উৎসর্গ করছি।”
সেমিফাইনালের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশকে চাপে রাখে নেপালি ফুটবলাররা। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি নেপাল।
প্রথমার্ধের শেষদিকে কোচ পিটার বাটলার-এর কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের অদম্য মানসিকতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কর্নার কিক থেকে সরাসরি দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার সেই অসাধারণ গোলেই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে তীব্র গরম এবং ফাইনালে ওঠার চাপের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নায়ক হয়ে ওঠেন ফরোয়ার্ড সাগরিকা। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নেপালের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
সাগরিকার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো বাংলাদেশের মেয়েরা। আবেগঘন এক দিনে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন তারা।




