ঝুঁকির ফুটবলেই অটল বায়ার্ন, মিউনিখে গোলবন্যার ইঙ্গিত
ক্রীড়া ডেস্ক :
সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে কঠিন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম লেগে ৫-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে লড়াইয়ে টিকে থাকা দলটি এবার ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। প্রতিপক্ষের মাঠে যে দল আক্রমণাত্মক ফুটবলে ঝড় তুলতে পারে, নিজেদের মাঠে তারা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠবে—এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তার দল চিরচেনা আক্রমণাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ ফুটবলেই খেলবে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকি নিয়েই লক্ষ্য অর্জনে এগোবে বায়ার্ন। কোম্পানির ভাষায়, দলের শক্তির জায়গা আক্রমণ—সেটা বিসর্জন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
প্রথম লেগে দুই দলের আক্রমণভাগ ছিল চোখ ধাঁধানো, তবে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই ম্যাচটি দর্শকদের কাছে দারুণ উপভোগ্য হলেও রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বায়ার্ন। তবু সমালোচনাকে পাশে সরিয়ে নিজেদের দর্শনে অটল রয়েছেন কোম্পানি। তার লক্ষ্য একটাই—বুদাপেস্টের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।
পরিসংখ্যানও বলছে, আক্রমণেই ভয়ংকর বায়ার্ন। ইতোমধ্যে বুন্দেসলিগা জিতে নেওয়া দলটি এই মৌসুমে ৩২ ম্যাচে করেছে ১১৬ গোল। তবে একই সঙ্গে রক্ষণভাগে ভোগান্তিও কম নয়। সর্বশেষ ৬ ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেছে তারা, যেখানে ক্লিন শিট মাত্র একটি। যদিও এই সময়েই ২১ গোল করে নিজেদের আক্রমণশক্তির প্রমাণ দিয়েছে বায়ার্ন।
ড্রেসিংরুমেও কোচের কৌশল নিয়ে রয়েছে পূর্ণ আস্থা। জশুয়া কিমিচ জানিয়ে দিয়েছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলার ধরন বদলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তার মতে, জয়ের পথ যেকোনো হতে পারে—৫-৪ কিংবা ১-০—কিন্তু লক্ষ্য একটাই, জয়।
অন্যদিকে, এক গোলের লিড নিয়ে মাঠে নামলেও রক্ষণাত্মক হওয়ার পক্ষে নয় পিএসজি। কোচ লুইস এনরিকে মনে করেন, মিউনিখে জিততে হলে অন্তত তিনটি গোল করতে হবে। ফলে দ্বিতীয় লেগেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ইঙ্গিত স্পষ্ট দুই দলের কাছ থেকেই।
সব মিলিয়ে মিউনিখে হতে যাচ্ছে আরেকটি হাইভোল্টেজ লড়াই, যেখানে রক্ষণ নয়, আক্রমণই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের প্রধান চাবিকাঠি। বায়ার্ন পিছু হটবে না, পিএসজিও নয়—ফলে গোলবন্যার আরেকটি ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।




