সব বদলায়, কিন্তু মুশফিক এখনও বাংলাদেশের শেষ ভরসা
ক্রীড়া ডেস্ক:
সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে অসংখ্য নতুন মুখ। কেউ ঝলক দেখিয়ে হারিয়ে গেছে, কেউ সম্ভাবনার আকাশ ছুঁয়েও স্থায়ী হতে পারেনি। কিন্তু এক নাম বছরের পর বছর একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে— মুশফিকুর রহিম।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরি শুধু একটি শতরান নয়, এটি ছিল অভিজ্ঞতা, জেদ, মানসিক দৃঢ়তা আর দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। যখন বাংলাদেশ চাপের মধ্যে, যখন মেঘলা আকাশে বল দারুণ সুইং করছিল, তখনই ক্রিজে এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন মুশফিক। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ, পরে সেটিকে রূপ দেন পাকিস্তানের জন্য দুঃস্বপ্নে।
লিটন দাসের সঙ্গে তার জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শুধু স্থিতিই দেয়নি, ম্যাচের মোড়ও ঘুরিয়ে দিয়েছে। আর শতরান পূরণের পর তার উদযাপন যেন বলে দিচ্ছিল— এই ইনিংস শুধুই রান নয়, এটি জমে থাকা ক্ষোভ, সমালোচনার জবাব আর নিজের সামর্থ্যের আরেকটি ঘোষণা।
মাঠে পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদের সঙ্গে উত্তেজনা, আব্বাসের আগ্রাসী বোলিং, রিভিউ নিয়ে নাটক— সবকিছুর মাঝেও একটুও বিচলিত হননি তিনি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে আরও দৃঢ় হয়েছেন। ১৭৮ বলে শতরান পূরণের পর তার চোখেমুখে ছিল এক যোদ্ধার তৃপ্তি।
এই ইনিংস দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডে এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন মুশফিক। একইসঙ্গে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১৬ হাজার রানের মাইলফলক। কিন্তু সংখ্যার বাইরেও তার আসল পরিচয় অন্য জায়গায়— তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারদের একজন।
২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অসংখ্য উত্থান-পতনের সাক্ষী তিনি। দলের সংকট, ব্যর্থতা, হতাশা— সবকিছুর মাঝেও বারবার ব্যাট হাতে লড়াই করেছেন। তাই আজও যখন বাংলাদেশ বিপদে পড়ে, কোটি ভক্তের চোখ সবার আগে খোঁজে এক মানুষকেই— মুশফিকুর রহিমকে।
কারণ সময় বদলালেও, বাংলাদেশের ক্রিকেটে নির্ভরতার সংজ্ঞা এখনও একটাই— মুশফিক।




