রাজধানীতে ৩০ ঘণ্টায় ১৩ প্রাণ ঝরল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সড়ক দুর্ঘটনা, রহস্যজনক মৃত্যু ও নবজাতক ট্র্যাজেডিতে শোকের নগরী ঢাকা
রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু, মিরপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূসহ দম্পতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ এবং মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু।
নর্দায় ভয়াবহ বাস সংঘর্ষে নিহত ৪
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর নর্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় ইসলাম পরিবহন ও আকাশ পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাস। ঘটনাস্থলেই নিহত হন লাইজু বেগম (৩৮)। পরে হাসপাতালে মারা যান তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), আত্মীয় খুশি বেগম (৩৫) ও রবিউল।
পুলিশ জানায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইসলাম পরিবহনের বাসটি রাস্তার ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিকের বাসে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর দুটি বাস জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন।
মিরপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ দম্পতির ঝুলন্ত লাশ
বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুরের দারুসসালাম হরিরামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) ও তার স্ত্রী ঝুম আক্তারের (১৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছেন। নিহত ঝুম অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাবি এলাকায় ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণেই ওই ভবঘুরে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনা ও এসি বন্ধ থাকার কারণেই নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত এক শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে পরিবারের অনীহার কারণে নবজাতকদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আতঙ্ক, শোক ও প্রশ্নে রাজধানীবাসী
একদিকে সড়কে প্রাণহানি, অন্যদিকে পারিবারিক ট্র্যাজেডি ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় নবজাতকের মৃত্যু—সব মিলিয়ে মাত্র ৩০ ঘণ্টায় ঢাকায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নগরজুড়ে। বিশেষ করে হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।




