রাজধানীতে বাড়ছে ভাড়াটে খুনির ব্যবহার, আড়ালে থাকছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানী ঢাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিতে এখন সরাসরি নিজেদের লোকজনের বদলে ভাড়াটে খুনি ও পেশাদার শুটার ব্যবহার করছে সন্ত্রাসী চক্রগুলো। ফলে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে সংঘটিত কয়েকটি হত্যা ও হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়লেও হামলাকারীদের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট গ্রুপের পরিচিত সদস্য নয়। অর্থের বিনিময়ে ভিন্ন এলাকার অপরাধীদের ব্যবহার করায় তদন্তে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার রামপুরায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় এই হামলার শিকার হন তিনি। মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলাকারীরা পেশাদার ভাড়াটে শুটার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিনে মুক্তি পান বেশ কয়েকজন আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিচ্চি হেলাল, ইমন, টিটন, আব্বাস আলী ও সুইডেন আসলাম। মুক্তির পর রাজধানীতে একের পর এক সংঘাত, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর ধরনে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। আগে সন্ত্রাসীরা নিজেদের গ্রুপের সদস্যদের ব্যবহার করলেও এখন পরিচয় গোপন রাখতে বাইরের লোকজনকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া অপরাধীদের কার্যক্রমের ওপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসী বা ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী বলে কিছু নেই। কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, সে যে-ই হোক।”
বিকল্প ঝাঁঝালো শিরোনাম:
ভাড়াটে খুনির দাপটে রাজধানী, আড়ালে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
সুপারি কিলিংয়ের ছায়ায় ঢাকা, বাড়ছে সন্ত্রাসী সংঘাত
প্রতিপক্ষ নির্মূলে ভাড়াটে শুটার, নতুন কৌশলে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
ঢাকায় ভাড়াটে খুনির নেটওয়ার্ক, বেকায়দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আড়ালে গডফাদার, মাঠে ভাড়াটে খুনি: রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক




