মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম: পচা খাবারে প্রশ্নের মুখে সরকারের ভালো উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া রোধে চালু হওয়া ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আধা পাকা ও কাঁচা কলা, পচা ডিম, বাসি পাউরুটি ও নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ঠিকাদারের কারণে সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগও রয়েছে।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস করা যাবে না। অসাধু ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদারকি আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
তবে সরকার বলছে, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, খাবারের মান নিশ্চিত করতে নজরদারি বৃদ্ধি, দরপত্র পুনর্বিবেচনা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খাবারের তালিকায় পরিবর্তনের বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।
তবে ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, মাদারীপুর সদর উপজেলা ও আমতলী উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পচা কলা ও ডিম, আবার কোথাও বাসি রুটি খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এসব ঘটনায় সরকার একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সম্প্রতি নরসিংদী জেলার কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সরকার জানিয়েছে, আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খাবার গ্রহণ ও বিতরণের আগে অবশ্যই মান, পরিমাণ ও মেয়াদ যাচাই করতে হবে। নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যসামগ্রী কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করা যাবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।




