ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী

‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশ হেফাজত থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের শার্শা উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে এক বিএনপি নেতাকে ‘মব সৃষ্টি’ করে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে। পরে শুক্রবার (৫ জুন) ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
আটক অভিযান ও উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের এক সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তারের জন্য যৌথ অভিযান চালায় শার্শা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
অভিযানের সময় তাকে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি মোড় থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার সমর্থকেরা বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করে ‘প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ আহ্বান জানায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘মব’ সৃষ্টি ও পুলিশের সরে যাওয়া
মাইকের ঘোষণার পর কয়েকশ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জনতার চাপ ও উত্তেজনার কারণে একপর্যায়ে পুলিশ আটককৃত আসামিকে রেখেই স্থান ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশ হেফাজত থেকে মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
মামলার পটভূমি
পুলিশ জানায়, শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য মামুন হাসান জুয়েল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এলে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৫–৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মোস্তফা কামাল মিন্টুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২৯ মে বিকেলে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে চায়ের দোকানের সামনে পূর্বশত্রুতার জেরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হচ্ছে। তার দাবি, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পুলিশ তাকে “বেআইনিভাবে তুলে নেওয়ার চেষ্টা” করছিল—এমন প্রচারণার পরই মানুষ জড়ো হয়।
পুলিশের বক্তব্য
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন,
“মারধরের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে মব সৃষ্টি করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।”
পরিস্থিতি
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।