মানবিক সংকট: ৩৮ ঘণ্টার বেশি সীমান্তে ১০ জন, তৃষ্ণায় কাঁদছে শিশুরা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মাঝামাঝি জিরো লাইনে টানা ৩৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে আছেন ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে তিনটি শিশু, যাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকার পরিবেশ।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতীয় ভূখণ্ডের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন ওই ১০ জন। তাদের মধ্যে তিনটি শিশুর বয়স ৬ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির অভাবে শিশুরা বারবার পানি চাইছে এবং কান্নাকাটি করছে। সন্তানদের কষ্ট দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন বাবা-মায়েরা।
আটকে থাকা এক ব্যক্তি আকুতি জানিয়ে বলেন, “ভাই, আমার বাচ্চার জন্য একটু পানি দেন, টাকা দিচ্ছি।” শিশুটির তৃষ্ণার্ত কান্না উপস্থিত সবার মনকে নাড়া দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান করছেন।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে শুক্রবার রাতের প্রবল বর্ষণে। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে একপর্যায়ে শিশুরা বৃষ্টির পানি এবং আশপাশে জমে থাকা ডোবার পানি পান করেছে বলে জানান তাদের একজন অভিভাবক। এতে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ৩৮ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সমস্যাটির কোনো সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অবৈধ পুশ-ইন হিসেবে উল্লেখ করে তাদের গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তা ও মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আটকে পড়া এসব নারী, পুরুষ ও শিশু।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তে আটকে পড়া শিশুদের কান্না, খাদ্য ও পানির সংকট এবং দুই দেশের অবস্থানের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এখন বড়বাড়ি সীমান্তে এক গভীর মানবিক সংকটের রূপ নিয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।




