ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে পথে পথে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ চালক-ব্যবসায়ীরা

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

 রাজশাহী প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর সিটি হাটে এখন জমজমাট পশু বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার গবাদিপশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। তবে পশু পরিবহনে জড়িয়ে থাকা চালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে পুলিশ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের চাঁদাবাজির কারণে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
চালকদের দাবি, রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি পশুবাহী ট্রাক নিয়ে যেতে পথে পথে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। আর চট্টগ্রামে গেলে খরচ আরও কয়েক হাজার টাকা বেড়ে যায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি, গাড়ি আটকে রাখা এমনকি লাঞ্ছনার শিকারও হতে হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
রাজশাহীর সিটি হাট ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন রাতেই প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ পশুবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয়। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই নগরের উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায় ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চালকদের ভাষ্য, সেখানে পুলিশ সদস্যদের নামে ৫০০ টাকা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তির জন্য আরও ৩০০ টাকা দিতে হয়।
এরপর পুঠিয়া এলাকায় পবা হাইওয়ে থানা অঞ্চলে আবারও ট্রাকপ্রতি ৫০০ টাকা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের নামে ২০০ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। একইভাবে নাটোরের বনপাড়া, সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও সখীপুর, গোড়াই এবং গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকাতেও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন চালকেরা।
ঢাকায় প্রবেশের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। গাবতলী, শনির আখড়া, মদনপুর, গাউসিয়া ও আড়াইহাজার এলাকায় নতুন করে টাকা দিতে হয়। আবার চট্টগ্রামমুখী ট্রাকগুলোকে কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অংশে আরও কয়েক দফা চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রাকমালিকেরা বলছেন, বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত পশুবাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু পথে চাঁদাবাজির কারণে আয়ের বড় অংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পশুর বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, চালকদের অভিযোগ বাস্তব। আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মহাসড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিআইজি আব্দুল্লাহ হিল বাকী জানান, ঈদ উপলক্ষে পশুবাহী যানবাহনের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।