ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী

জলবায়ু অর্থায়নের নামে বাড়ছে ঋণের বোঝা, বিপাকে দরিদ্র দেশগুলো

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


নিজস্ব প্রতিবেদক :

  জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও কৃষি উৎপাদনে ধাক্কার মতো নানা সংকটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। অথচ এই ক্ষতি মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশই অনুদানের বদলে ঋণ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা নতুন করে দরিদ্র দেশগুলোর দেনার বোঝা বাড়াচ্ছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো জলবায়ু অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ছাড়িয়ে ১১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০২৪ সালে আরও বেড়ে হয় ১৩৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থ মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তার জন্য দেওয়া হয়। অর্থায়নের উৎস উন্নত দেশগুলোর সরকার, বেসরকারি খাত এবং বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা।
তবে সহায়তার পরিমাণ বাড়লেও এর ধরন নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা। ওইসিডির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের ৭৩ শতাংশই ছিল ঋণ। ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে ৬৭ শতাংশে নেমে এলেও এখনো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অর্থ ঋণ হিসেবেই দেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
২০২৪ সালে সরকারি অর্থায়ন ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও বেসরকারি খাতের অবদান ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ওইসিডির প্রতিবেদনের প্রধান রাফায়েল জাচনিক বলেন, ২০২৩ সালের বড় উল্লম্ফনের পর ২০২৪ সালে সরকারি অর্থায়ন স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে।
এদিকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এই অর্থায়নের বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। তাদের ঘোষিত সহায়তার তুলনায় বাস্তবে অনেক কম অর্থ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্ষতির তুলনায় এই সহায়তা খুবই সামান্য। পাশাপাশি অর্থায়নের হিসাবে ডাবল কাউন্টিং ও বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকৃত চিত্র আরও অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এলডিসি ইউনিভার্সিটিস কনসোর্টিয়াম অন ক্লাইমেট চেঞ্জের টেকনিক্যাল লিড অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে এখন ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে বড় ধরনের অবিচার।
নাইরোবিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোই আবার দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ দিয়ে লাভবান হচ্ছে। এটি অত্যন্ত অন্যায্য।
নতুন লক্ষ্য নিয়েও শঙ্কা
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পূরণে ধনী দেশগুলো বারবার দেরি করেছে।
২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত কপ২৯ সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার নতুন অঙ্গীকার করে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতে, এই অর্থও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
ওইসিডি সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই নতুন লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ঋণের বদলে অনুদান চায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো
২০২৪ সালে জলবায়ু অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যা মোট অর্থের ৩৬ শতাংশ। আফ্রিকার অংশ ছিল ৩১ শতাংশ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি, জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ নয়, অনুদান হিসেবেই দিতে হবে।
আগামী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর মনোনীত সভাপতি ও তুরস্কের জলবায়ুমন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, দাতাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।