জিদানের ছেলে আলজেরিয়ার জার্সিতে: লুকা জিদানের নতুন যাত্রা
ক্রীড়া ডেস্ক :
২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সেই নাটকীয় চূড়ান্ত ম্যাচ আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বাবার উত্থান-পতনের মুহূর্তগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছিল একটি ছোট্ট ছেলে। সেই ছেলেটিই আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের পরিচয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। তিনি লুকা জিদান, ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে।
ফ্রান্সে জন্ম হলেও লুকার জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে স্পেনে। বর্তমানে তিনি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব গ্রানাদার গোলরক্ষক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের পরিবর্তে আলজেরিয়াকে বেছে নিয়ে তিনি নিজের পারিবারিক শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
লুকা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁদের পরিবারে আলজেরিয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা ছিল। তাঁর দাদা-দাদি আলজেরিয়া থেকে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেই পারিবারিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি আলজেরিয়ার জার্সি গায়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তে তাঁর পরিবার, বিশেষ করে বাবা জিনেদিন জিদান, দারুণ খুশি হয়েছেন।
তবে ‘জিদান’ নামটি যেমন গৌরবের, তেমনি চাপেরও। পেশাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সামান্য ভুলও সংবাদমাধ্যমে ‘জিদানের ছেলের ভুল’ শিরোনামে উঠে এসেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চাপ সামলাতে শিখেছেন তিনি। এখন তাঁর লক্ষ্য নিজের নৈপুণ্যের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় গড়ে তোলা।
আলজেরিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রা খুব বেশি দিনের না হলেও ইতোমধ্যে তিনি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে ধারাবাহিক ভালো নৈপুণ্য দেখিয়ে জাতীয় দলের গোলপোস্টে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।
এবার বিশ্বকাপে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে প্রতিপক্ষের তারকাখচিত পরিচয়ে বিচলিত নন লুকা। তাঁর বিশ্বাস, ফুটবলে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো দলীয় ঐক্য, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস।
বাবার কিংবদন্তি পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের স্বপ্নের পথ তৈরি করছেন লুকা জিদান। বিশ্বকাপের এই মঞ্চ তাঁর জন্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার এক বড় সুযোগ। আলজেরিয়ার জার্সিতে তিনি এখন নতুন ইতিহাস রচনার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন।




