ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

ঘুষ না দিলে হয়রানি? সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

নিজস্ব  প্রতিবেদক:

ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রেশন বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ঘুষ, মাসোহারা আদায়, দালালচক্রকে প্রশ্রয় এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্টার আব্দুল কাদের এবং গুলশান সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দিকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি অনুমোদন ও বিধিবিধানের বাইরে ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের জমির দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ওই স্ক্যানারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালচক্রকে সুবিধা প্রদান এবং দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
এদিকে জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাসোহারা গ্রহণ, অডিটের নামে অর্থ আদায় এবং বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলার ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খাতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অডিট কার্যক্রমের নামে প্রতি তিন মাস অন্তর বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।
সূত্রগুলো দাবি করছে, প্রতি তিন মাসে একটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হলে ২১টি অফিস থেকে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্টার আব্দুল কাদের এবং গুলশান সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-রেজিস্টার জানান, এর আগেও বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে। সেই সময়ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিস পরিচালনার অভিযোগ সামনে আসে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ৩৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন এবং অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় রেজিস্ট্রেশন সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই এখনো তদন্ত ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।