চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব: বর্তমান নেতৃত্বকে ‘গুপ্ত জামায়াত’ বললেন হারুনুর রশিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলটির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক হারুনুর রশিদ বর্তমান জেলা বিএনপির নেতাদের ‘গুপ্ত জামায়াত’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বিএনপির নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশিদ এসব মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জেলা বিএনপির বর্তমান দায়িত্বশীল নেতারা প্রকৃতপক্ষে বিএনপির আদর্শের অনুসারী নন। তার ভাষায়, বর্তমান জেলা কমিটির অধিকাংশ নেতা ‘গুপ্ত জামায়াতের’ সদস্য এবং তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেননি। তিনি দলীয় চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানান।
হারুনুর রশিদ আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা দলের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে একজনও বিএনপির পক্ষে ভোটের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি। এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান জেলা কমিটি তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রয়েছে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, অতীতে হারুনুর রশিদ নিজেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে হারুনুর রশিদ নিজেই জেলা কমিটির বৈধতা ও অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অথচ এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
হারুনুর রশিদের বক্তব্য ও জেলা বিএনপির নেতাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে জেলার বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দলীয় উচ্চপর্যায় থেকেও প্রতিক্রিয়া বা তদন্তের উদ্যোগ দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।




