ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

ফুটপাত পুনর্বাসনে ‘সিন্ডিকেট’, বঞ্চিত পুরোনো হকাররা

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত এপ্রিল মাসে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এক মাস না যেতেই আবার আগের চিত্র ফিরে এসেছে। গুলিস্তান, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অংশজুড়ে বসেছে হকারদের দোকান। তবে এবার অভিযোগ উঠেছে, পুনর্বাসনের নামে প্রকৃত পুরোনো হকারদের বাদ দিয়ে নতুনদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে।
হকারদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দের লোকদের তালিকাভুক্ত করে ফুটপাত ভাগাভাগি করে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা আবার সেই জায়গা ভাড়ায় অন্যদের কাছে দিচ্ছেন।
নতুনদের দখলে ফুটপাত
রাজধানীর গুলিস্তানের মসজিদ মার্কেটের সামনে কাপড় বিক্রি করছেন আতিকুর রহমান সুজন। তিনি জানান, মাত্র সাত দিন আগে হকারি শুরু করেছেন। এর আগে একটি মুদিদোকানে চাকরি করতেন। স্থানীয় এক শ্রমিকনেতার সহায়তায় তিনি ফুটপাতে জায়গা পেয়েছেন।
পাশেই দোকান বসানো হাফিজুর রহমানও নতুন। তাঁর দাবি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারীর আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন।
শুধু গুলিস্তান নয়, ফার্মগেট, নিউমার্কেট ও মিরপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হকারি করা অনেকেই তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগ করেছেন।
‘নেতা থাকলে জায়গা মেলে’
গুলিস্তানের এক হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“যাদের নেতা আছে, তারা জায়গা পাইতেছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কেউ নাই।”
বঙ্গবাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব বলেন,
“অনেক নতুন লোকের নাম তালিকায় উঠছে, যারা আগে কোনো দিন ফুটপাতে ব্যবসা করেনি। এখন আমাদের সেই লোকদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিতে বলা হচ্ছে।”
ফার্মগেট এলাকায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা করা মিজানুর রহমান জানান, তথ্য নেওয়া হলেও এখনো তিনি কোনো স্মার্ট কার্ড পাননি। অথচ নতুন অনেকেই ইতিমধ্যে কার্ড পেয়ে বসেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধি ও হকার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফার্মগেট ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জয়নাল আবেদীনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারা বসবেন সে সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশন নেবে।
হকারদের মধ্যে ক্ষোভ
নিউমার্কেট এলাকার কয়েকজন হকার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক পুরোনো হকারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন,
“পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে প্রকৃত হকাররা উপকৃত হবে না। অনেক জায়গায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও পাচ্ছি।”
নতুন নীতিমালায় যা থাকছে
স্থানীয় সরকার বিভাগের নতুন হকার নীতিমালা অনুযায়ী—
নিবন্ধিত হকাররাই শুধু ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবেন
মাসিক ফি ১০০ টাকা বা বার্ষিক এক হাজার টাকা
কিউআর কোডসংবলিত স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে
এক পরিবার থেকে একজনের বেশি নিবন্ধন করতে পারবেন না
নারী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা থাকবে
ফুটপাতে অন্তত পাঁচ ফুট পথচারীদের জন্য খালি রাখতে হবে
নির্ধারিত সময় ও স্থানের বাইরে ব্যবসা করলে লাইসেন্স বাতিল করা যাবে
পুনর্বাসনের মার্কেটেও প্রকৃত হকার কম
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা বহু মার্কেট একসময় হকার পুনর্বাসনের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন সেখানে প্রকৃত হকারের সংখ্যা খুব কম বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টারের দোকানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ দোকান বর্তমানে বড় ব্যবসায়ী বা ভাড়াটিয়াদের নিয়ন্ত্রণে। অনেক প্রকৃত হকার বরাদ্দ পাওয়া দোকান বিক্রি করে দিয়েছেন।
হকার্স ইউনিয়নের নেতাদের মতে, অতীতের মতো এবারও যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে পুনর্বাসনের পুরো উদ্যোগই প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।