ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

দমকলকর্মী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে হাজেম মাস্তুরি

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


ক্রীড়া ডেস্ক :

 ফুটবলের রূপকথার গল্পগুলো আজও শেষ হয়ে যায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি যেন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করারই এক জীবন্ত উদাহরণ। কয়েক বছর আগেও যিনি পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনিই এখন দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম ভরসা।
১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া মাস্তুরির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তিউনিসিয়ার তৃতীয় বিভাগের অপেশাদার ক্লাব দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় স্তরের দল এলপিএস তোজেউরে গেলেও ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি। ২০২১ সালে শীর্ষ লিগের ক্লাব ইএস মেত্লাউইতে সুযোগ পেলেও সেখানে তাকে বেশি লড়তে হয়েছে অবনমন এড়ানোর জন্য।
স্বল্প বেতন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর বারবার ক্লাব বদলের চাপে একসময় ফুটবল থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন মাস্তুরি। জীবনের নিরাপত্তা আর স্থায়ী আয়ের আশায় দমকলকর্মী হওয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন তিনি।
কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে থামতে দেয়নি। ২০২৩ সালে আলোচনার বাইরে থাকা ইরাকের ক্লাব আল-নাজাফ এসসিতে যোগ দিয়ে নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন। আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন।
২০২৪ সালে তিউনিসিয়ার ক্লাব ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়ার পর যেন বিস্ফোরণ ঘটান এই স্ট্রাইকার। দুর্দান্ত গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং ও ধারালো ফিনিশিংয়ে সে মৌসুমে করেন ১৭ গোল। ঘরোয়া ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়া জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।
জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজেকে প্রমাণ করতে সময় নেননি মাস্তুরি। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২৫ সালে রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালা তাকে দলে ভেড়ায়। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে সম্পন্ন হয় সেই চুক্তি।
বর্তমানে তিউনিসিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল।
আধুনিক ফুটবলে যেখানে বড় একাডেমি আর বিপুল অর্থ ছাড়া তারকা হয়ে ওঠা কঠিন বলে মনে করা হয়, সেখানে হাজেম মাস্তুরি প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে পতনের কিনারা থেকেও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।