ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

বেগম জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তারের ‘মাস্টারমাইন্ড’ মতি-মাহফুজ: রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


ডেস্ক রিপোর্ট :

 প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম–এর নেতৃত্বে সুশীল সমাজের একটি অংশের চাপেই এক-এগারোর সময় বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এক-এগারোর দুই আলোচিত সামরিক কর্মকর্তা।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের কাছে দেওয়া জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা এক-এগারোর মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনামের নাম উল্লেখ করেছেন। রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা দাবি করেন, সেনাবাহিনী শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পক্ষে ছিল না। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, বিশেষ করে দুই সম্পাদক, তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার ভিত্তিতে।
মাসুদ উদ্দিন জানান, ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় তিনি নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। সে সময় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার সঙ্গে একান্ত বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে গুলশানে এক শিল্পপতির বাসায় নৈশভোজে তিনি কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সম্পাদক, অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
তার দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এ বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে মাসুদ আরও দাবি করেন, ৮ জানুয়ারির এক বৈঠকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ–এর সরকার সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে তিনি সেনাপ্রধানের চেয়েও জনপ্রিয় ছিলেন এবং সেই কারণেই তাকে সামনে রেখে অনেক কিছু করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, কোর কমান্ড বৈঠকে খালেদা জিয়া পরিবারকে গৃহবন্দি বা বিদেশে পাঠানোর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর দাবি ওঠে। মাসুদ বলেন, তিনি সতর্ক করেছিলেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি এবং জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তার করলে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
তার ভাষ্যমতে, তখন সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল— “দুই নেত্রীকে না সরালে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়।” এরপর বিভিন্ন সংবাদপত্রে দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে।
মাসুদ উদ্দিন দাবি করেন, মতিউর রহমানের লেখা ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’ শিরোনামের লেখাটি এক-এগারো সরকারের পথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকেই একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা চালায় এবং ‘বিরাজনীতিকরণ’ ধারণাকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, এক-এগারোর পেছনের প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য জানতে প্রতিনিধি প্রথম আলো কার্যালয়ে গেলে জানানো হয়, তিনি অফিসে উপস্থিত নেই।

AdvertisementAdvertisement

সূত্র:বাংলাদেশের প্রতিদিন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।