ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

অতিবৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে বোরো ধানে বিপর্যয়, লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | 
টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কুড়িগ্রামের বোরো ধান চাষে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাকা ধান জমিতে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, আবার কেটে আনা ধান ও খড় ঠিকভাবে শুকাতে না পারায় পচন ধরছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।
রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বোরো জমিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। পানির মধ্যেই অনেক কৃষক পাকা ধান কাটছেন।
কৃষক ফুলমিয়া (৫৭) বলেন, “দিনরাত বৃষ্টি হচ্ছে। ধান কেটে ঘরে আনলেও শুকাতে পারছি না। কীভাবে এই ক্ষতি সামলাব বুঝতে পারছি না।”
একই এলাকার কৃষক ইয়াতুন্নেছা জানান, পানির মধ্যে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক সংকট কাটছে না। ফলে কাটা ধান দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টির মধ্যেই ধান কাটতে হয়েছে। ধানে অঙ্কুর বের হতে শুরু করেছিল। বাধ্য হয়ে ভেজা ধান কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, শুধু বোরো ধান নয়—ভুট্টা, পাট ও সবজি চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পাকা ধান কেটে ছাউনিযুক্ত স্থানে মজুত করতে হবে এবং বাতাসে শুকানোর পর রোদে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে খড় সংরক্ষণের কার্যকর বিকল্প এখনো সীমিত।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টির কারণে বোরো চাষিরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়া উচিত, নাহলে ক্ষতি আরও বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৩৭ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন-চার দিন বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে এবং দিনের বেলায় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মে মাসে কুড়িগ্রামে ১৩ ও ১৮ মে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।