অর্থ পাচারের জন্যও —ড. ইউনূসেরনোবেল পাওয়া উচিত-
ডেস্ক রিপোর্ট :
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম রনির একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেশের অর্থনীতি, অর্থ পাচার এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন।
ভিডিওতে গোলাম রনি দাবি করেন, সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী গত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে অর্থ পাচারের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক এবং জাতীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়া দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি মন্তব্য করেন যে, অর্থ পাচারের এমন প্রবণতা দেখে মনে হয় সরকারের সংশ্লিষ্টদের ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থনৈতিক দর্শন থেকে বিশেষ শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি বিষয়টিকে ‘বিশ্বমানের দক্ষতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্রূপ করেন।
গোলাম রনি আরও বলেন, যে মাত্রায় অর্থ পাচারের অভিযোগ ও আলোচনা সামনে আসছে, তা কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ড. ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতিতে আরও একটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, এটি হবে এক ধরনের ‘ডাবল নোবেল’ স্বীকৃতি।
এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতিবিদদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতে নানা অসঙ্গতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ গোলাম রনির বক্তব্যকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তার উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। বিভিন্ন মহলে অর্থ পাচার, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাম রনির এই বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত মতামত ও ব্যঙ্গাত্মক পর্যবেক্ষণের বহিঃপ্রকাশ। বক্তব্যে উত্থাপিত তথ্য ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থ পাচার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, দেশের অর্থনীতি নিয়ে যেকোনো আলোচনা ও সমালোচনা তথ্যভিত্তিক এবং দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। কারণ অর্থনৈতিক বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




