প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে ৯১৮ মেগাওয়াটের ১২ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, কমল বিদ্যুতের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় অগ্রগতির অংশ হিসেবে সরকার প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ১২টি নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ৯১৮ মেগাওয়াট এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে এগুলো চালু করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৬টি নতুন সৌর প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন চুক্তিগুলোতে আগের তুলনায় বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য গড়ে প্রায় আড়াই সেন্ট কমানো সম্ভব হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দ্রুত সরবরাহ আইনের আওতায় অনুমোদিত ২৭টি সৌর ও ৪টি বায়ু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের দাবি ছিল, বিতর্কিত আইন বাতিল হওয়ার পর প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৫৫টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট সক্ষমতা ছিল ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট। এর মধ্য থেকে আপাতত ১২টি প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
আগের বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর বিদ্যুতের দাম ছিল প্রতি ইউনিট ৭ দশমিক ৪৯ সেন্ট থেকে ৮ দশমিক ৩২ সেন্টের মধ্যে। গড় মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৯৩ সেন্ট। নতুন দরপত্রের মাধ্যমে এই দাম গড়ে প্রায় ২ সেন্ট পর্যন্ত কমানো গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, সরকারের পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে।
যেসব পুরোনো প্রকল্প নতুন করে অনুমোদন পেল
পাবনার ঈশ্বরদীর ৭০ মেগাওয়াট প্রকল্পে আগের চুক্তির ইউনিট মূল্য ছিল ১০ দশমিক ১৫ সেন্ট। নতুন করে প্যারামাউন্ট হোল্ডিং ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল জয়েন্ট ভেঞ্চারকে কাজ দেওয়া হয়েছে ৭ দশমিক ৯০ সেন্ট দরে।
নোয়াখালীর সুধারামের ১০ মেগাওয়াট প্রকল্পে আগের দাম ছিল ৯ দশমিক ৯৭ সেন্ট। নতুন চুক্তিতে মাহিন-বিদ্যুলংকা জয়েন্ট ভেঞ্চার বিদ্যুৎ দেবে ৭ দশমিক ৪৯ সেন্টে।
নীলফামারীর জলঢাকায় ৫০ মেগাওয়াট প্রকল্পে আগের দাম ছিল ৯ দশমিক ৯৮ সেন্ট। নতুন দরপত্রে কনকর্ড-প্রগতি কনসোর্টিয়াম বিদ্যুৎ দেবে ৮ দশমিক ২৬ সেন্টে।
কক্সবাজারের মাচুয়াখালীতে ১০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের আগের দর ছিল ৯ দশমিক ৯৮ সেন্ট। এখন কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া ইউনিট-২ লিমিটেড ৮ দশমিক ০৯ সেন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
কক্সবাজার গ্রিড সাবস্টেশনের পাশের আরেকটি ১০০ মেগাওয়াট প্রকল্পে আগের দাম ছিল ৯ দশমিক ৮৯ সেন্ট। নতুন চুক্তিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ সেন্টে।
বাগেরহাটের মোংলার ১০০ মেগাওয়াট প্রকল্পেও আগের ৯ দশমিক ৯৫ সেন্ট থেকে কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ০৯ সেন্ট।
নতুন ছয়টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৮ মেগাওয়াট প্রকল্প
ফটিকছড়িতে ৪৫ মেগাওয়াট প্রকল্প
ফটিকছড়িতে আরও ২০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প
মৌলভীবাজারে ২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র
পাবনায় ১৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র
এসব প্রকল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ দশমিক ৬৬ সেন্ট থেকে ৮ দশমিক ৩২ সেন্টের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান Institute for Energy Economics and Financial Analysis–এর মুখ্য বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম আরও কমানো সম্ভব—এটিও প্রমাণ হয়েছে।




