কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস, লোকসানের মুখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের ঐতিহ্যবাহী চকবৈদ্যনাথ চামড়া মোকামে কোরবানির পশুর চামড়া আসতে শুরু করলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় আবারও হতাশা ও লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংগ্রহমূল্যের চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে আড়তদারদের দাবি, লাম্পিস্কিনে আক্রান্ত ও যথাযথভাবে লবণ সংরক্ষণ না করা চামড়ার কারণে দাম কমে গেছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম হিসেবে পরিচিত নাটোরের চকবৈদ্যনাথে কোরবানির ঈদের দিন থেকেই চামড়া আসা শুরু হয়। কোরবানির দ্বিতীয় দিনে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ গরু ও ছাগলের চামড়া মোকামে আনা হয়। তবে বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করেই ফিরে গেছেন।
মোকাম-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একটি ভালো মানের ছাগলের চামড়া মাত্র ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবণযুক্ত ভালো চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠলেও অধিকাংশ বিক্রেতা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না।
রাজশাহীর মোহনপুর থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী আনসার আলী জানান, ভালো দামের আশায় তিনি ২০টি খাসির চামড়া নিয়ে নাটোরে এসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০০ টাকা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এতে পরিবহন খরচও ওঠেনি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারীর দাবি, চামড়াগুলোর বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হাফেজ মো. কাউসার আলী জানান, তাঁদের সংগ্রহ করা ৩৫টি গরু ও ২০০টি ছাগলের চামড়া ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরিবহন ও আড়তদারি খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর অভিযোগ, কোরবানির সময় চামড়ার বাজারে এক ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে দাম কমিয়ে দেয়।
অন্যদিকে আড়তদাররা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আড়তদার রকিব উদ্দিন বলেন, ভালো মানের একটি গরুর চামড়ার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। তবে কাটা, ক্ষতিগ্রস্ত বা লাম্পিস্কিনে আক্রান্ত চামড়া কেনা হচ্ছে না।
আরেক আড়তদার নাসিম খান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করায় চামড়ার মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এসব চামড়া দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়, তাই স্বাভাবিক দামেও কিনতে ঝুঁকি থাকে।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ত্রুটিপূর্ণ চামড়া সম্পর্কে আগেই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছিল। ভালো মানের চামড়ার ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্য দিতে ব্যবসায়ীদের কোনো অনীহা নেই। তবে সংগ্রহের সময় চামড়ার মান যাচাই এবং সঠিক সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
চলতি মৌসুমে নাটোরে প্রায় ১২ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি উন্নত না হলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বড় অংশকে এবারও লোকসানের বোঝা টানতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




