জন্মদিন উদযাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্র মাসুম খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় শাকিবুল হাসান মাসুম (২৪) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার পৌরশহরের মাজার রোড এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
নিহত মাসুম গফরগাঁও সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি উপজেলার রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের একমাত্র ছেলে। পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে পরিচিত মাসুমের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডাকবাংলো চত্বরে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেন মাসুম। কেক কাটা ও আড্ডা শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু নাহিয়ান রবিনের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৬ থেকে ৭ জন মুখোশধারী তাদের গতিরোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে মাসুম ও তার বন্ধুর চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাসুমের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলার সময় বন্ধু রবিন কোনোভাবে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন মাসুম।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাসুমের বন্ধু নাহিয়ান রবিন জানান, “আমরা জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী আমাদের পথরোধ করে। তারা চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাসুমের ওপর হামলা শুরু করে। আমি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাই, কিন্তু ওকে বাঁচাতে পারিনি।”
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা মোফাজ্জল হোসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সব স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ঘিরে। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। সন্ত্রাসীরা আমার বুক খালি করে দিয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় সম্প্রতি ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি জন্মদিনের আনন্দঘন মুহূর্ত যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন শোকাবহ পরিণতিতে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এখন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের একটাই দাবি—দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।




