ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

জিন ছাড়ানোর নামে নারী-শিশু নির্যাতন, লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

ডেস্ক রিপোর্ট :
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটিতে একসময় ‘সম্মানিত ইমাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন আব্দুল হালিম খান। কিন্তু ধর্মীয় প্রভাব ও বিশ্বাসকে ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত করে নারী ও শিশুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো যৌন নির্যাতনের দায়ে এবার তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের আদালত।
লন্ডনের স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্ট রায়ে বলেছেন, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অন্তত সাতজন নারী ও শিশুকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালান হালিম খান। আদালত তাঁকে ২১টি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে একাধিক ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে। রায় অনুযায়ী, তাঁকে কমপক্ষে ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
আদালতে উঠে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, হালিম খান ভুক্তভোগীদের বোঝাতেন যে তাদের ওপর ‘বদ জিন’ বা অশুভ শক্তির প্রভাব রয়েছে। পরে চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁকের কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন। সেখানে জিন ভর করার অভিনয় করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চালাতেন যৌন নির্যাতন।
এক ভুক্তভোগী জানান, নির্যাতনের সময় তাঁকে চোখ বন্ধ রাখতে বলা হতো। গাড়ির জানালায় শব্দ করে বোঝানো হতো বাইরে অশুভ শক্তি ঘুরছে। আতঙ্কে কিশোরীটি প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। আরেকজনকে ভয় দেখানো হয়েছিল—ঘটনা কাউকে জানালে তাঁর পরিবারের ক্ষতি হবে।
বিচারক লেসলি কাথবার্ট বলেন, “নিজের ক্ষমতা ও ধর্মীয় অবস্থানকে ব্যবহার করে আপনি ভয়ংকর অপরাধ করেছেন। আপনি এমন আচরণ করেছেন যেন আইন আপনার নাগালের বাইরে।”
মামলার প্রসিকিউটর সারাহ মরিস কেসি বলেন, ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্যাতনের ক্ষত তাদের সারা জীবন বহন করতে হবে।
ভুক্তভোগীদের একজন আদালতে বলেন, নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানানোর পরও তাঁকে বিশ্বাস করা হয়নি। বরং তাকেই দোষারোপ করা হয়। এতে কিশোরী বয়সেই তাঁকে পরিবার ছেড়ে যেতে হয়। তাঁর ভাষায়, “যাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলাম, তারাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা জেনি রোনান বলেন, বাইরে থেকে নিজেকে ধার্মিক ও বিশ্বস্ত হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে হালিম খান ছিলেন ভয়ংকর অপরাধী। ভুক্তভোগীদের সাহসী ভূমিকার কারণেই এই বিচার সম্ভব হয়েছে।
শিশু সুরক্ষা বিষয়ক দাতব্য সংস্থা NSPCC এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ধর্মীয় অবস্থান ব্যবহার করে শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ কখনোই ক্ষমার যোগ্য নয়। এই রায় ভবিষ্যতের অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।