ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

ইরানি ‘শাহেদ’-এর আদলে তৈরি মার্কিন ‘লুকাস’, ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার

HURMAT ALI বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

ডেস্ক রিপোর্ট :
একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোন প্রযুক্তির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা দেখিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু শক্তিশালী অস্ত্র নয়—বরং কম খরচে কার্যকর ড্রোন তৈরি করাই হয়ে উঠছে বড় কৌশল।
এই ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরেই এগিয়ে রয়েছে ইরান। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও কম খরচের নতুন ড্রোন তৈরি করেছে, যার নাম লুকাস (এফএলএম–১৩৬)। এটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেক্টারওয়ার্কস।
ইরানের কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার হলেও ইরানের বাজেট প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল পার্থক্য সামাল দিতে ইরান ‘অপ্রতিসম যুদ্ধনীতি’ গ্রহণ করেছে। এর একটি বড় উদাহরণ ইরানের তৈরি হেসা শাহেদ–১৩৬ কামিকাজে ড্রোন।
‘কামিকাজে’ শব্দটি জাপানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিস্ফোরকভর্তি যুদ্ধবিমান শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে পড়ত—এই আত্মঘাতী হামলার কৌশলকেই বলা হতো কামিকাজে।
ইরানের তৈরি একটি শাহেদ ড্রোন বানাতে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু এই ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যার খরচ প্রায় ৪০ লাখ ডলার।
এই ব্যয়ের ব্যবধান কমাতেই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে লুকাস ড্রোন। প্রতিটি লুকাস ড্রোনের দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার, ফলে ইরানের শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে খরচ ও কার্যকারিতায় প্রতিযোগিতা করতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র।
লুকাস ড্রোনের বিশেষত্ব
লুকাস ড্রোনটির ওজন প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কেজি, যা ইরানের শাহেদ ড্রোনের (প্রায় ২০০ কেজি) তুলনায় অনেক হালকা। এটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় প্রায় ১৯৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে থাকতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক ইতিমধ্যে এই ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প পরিবারের ড্রোন ব্যবসা
ড্রোন প্রযুক্তির বাড়তে থাকা গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আমেরিকান ড্রোন আধিপত্য জোরদার’ নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন শিল্পকে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ড্রোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাস–এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের আধিপত্য ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানিকে দ্রুত প্রায় ৩ লাখ কম দামের ড্রোন সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে এসব ড্রোন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।