ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী

চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়নি

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড)-এর সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প এক দশক ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি নিয়ে একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও নীতিগত ও কৌশলগত কিছু বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনার পর প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি টু জি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এলাকাটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এটি ভবিষ্যতে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকে।
শুরুতে ডেভেলপার হিসেবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) বিবেচনা করা হলেও তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় প্রকল্পটি এগোয়নি। পরে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনয়নে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
সর্বশেষ পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণের আওতায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা।
প্রকল্পের আওতায় জেটি লিংক রোড, সেতু, চার লেন সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণাগার এবং বাউন্ডারি ওয়ালসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো নির্মিত হলে চীনা শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হবে। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।