বর্ষার আগমনে ডেঙ্গুর শঙ্কা বাড়ছে, আক্রান্ত ১০ দিনে ৬৪৭: ঝুঁকিতে ঢাকার ২৭ ওয়ার্ড
িনজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই সারা দেশে ৬৪৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ৮৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। সর্বশেষ ১ জুন খুলনায় একজনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে ডিএসসিসি।
কোরবানি ঈদের পর জমে থাকা বর্জ্য এবং সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন নগরবাসী। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মশার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ও বসবাস ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্ষা মৌসুম এডিস মশার বংশবিস্তারের সবচেয়ে অনুকূল সময়। ঈদের ছুটিতে অনেক স্থানে জমে থাকা পানির উৎসগুলো নিয়মিত তদারকি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁর মতে, ঈদের আগের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর ডেঙ্গু মোকাবিলা সহজ হবে না। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশন মশকনিধন কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করেছে।
নগর-পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র ফগিং বা রাসায়নিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জৈবিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।




