২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন ভবিষ্যদ্বাণীতে চমক।
ক্রীড়া ডেস্ক :
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা আর ভবিষ্যদ্বাণীর আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কোনো কোচ বা ফুটবল কিংবদন্তি নন—একজন অর্থনীতিবিদ। তার নাম জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, যিনি একটি গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফল সঠিকভাবে মিলিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তার মডেল যথাক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল, যা বাস্তব ফলের সঙ্গে মিলে যায় বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই তার বিশ্লেষণ ফুটবল দুনিয়ায় বেশ আলোচিত।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন ক্লেমেন্ট। স্প্যানিশ গণমাধ্যম এএস স্পোর্টস এবং সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, এবার শিরোপা জিতবে নেদারল্যান্ডস। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফাইনাল হতে পারে নেদারল্যান্ডস বনাম পর্তুগাল—যেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়বে ডাচরা।
ক্লেমেন্টের এই মডেল শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। এতে যুক্ত করা হয় অর্থনীতি, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থা ও অবকাঠামোর মতো নানা বিষয়। তার মতে, শক্তিশালী অর্থনীতি উন্নত ফুটবল একাডেমি গড়ে তুলতে সাহায্য করে, তবে অতিরিক্ত ধনী দেশগুলোতে শিশুদের খেলাধুলার আগ্রহ কিছুটা কমে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বড় জনসংখ্যা মানেই প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার বেশি সুযোগ, তবে সেই দেশে ফুটবল জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি হতে হবে। তার গবেষণায় দেখা যায়, গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ফুটবলার বিকাশের জন্য পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী হয়।
এছাড়া তিনি দলগুলোর ফিফা র্যাঙ্কিং, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং হোম অ্যাডভান্টেজকেও হিসাবের মধ্যে রাখেন। তার মডেলে ভাগ্যকেও বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হয়েছে, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলাফল নির্ধারণ করে বলে তিনি মনে করেন।
তবে বাজিকরদের পূর্বাভাস ক্লেমেন্টের সঙ্গে একমত নয়। বিভিন্ন প্রেডিকশন মার্কেটে নেদারল্যান্ডসকে শিরোপার অন্যতম ফেভারিট ধরা হয়নি। বরং স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও জার্মানিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস খেলবে গ্রুপ ‘এফ’-এ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়া। গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী, তারা ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে, ২০ জুন সুইডেনের বিপক্ষে এবং ২৫ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে।
টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফল মিলিয়ে আলোচনায় আসা ক্লেমেন্টের এই নতুন ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয় কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে।




