বিলুপ্ত হচ্ছে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী দুই ইউনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনের নামে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের জন্ম দেওয়া পুলিশের বিশেষায়িত দুই ইউনিট—ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)—বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই দুই ইউনিটকে একীভূত করে নতুন নামে “স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)” গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন ইউনিটের প্রধান হবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। ইতোমধ্যে নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদ দমনের নামে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে সিটিটিসি ও এটিইউর বিরুদ্ধে গুম, গোপন বন্দিশালা, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে “জঙ্গি আস্তানা” সন্দেহে চালানো অভিযানে বহু মানুষ নিহত হন, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে মানবাধিকার মহলে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়।
২০১৬ সালে গুলশানের ভয়াবহ হলি আর্টিজান হামলার পর সিটিটিসি কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ তখন নিহতদের জঙ্গি হিসেবে দাবি করলেও পরবর্তীতে কিছু অভিযানের বৈধতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কল্যাণপুরের “জাহাজবাড়ি” অভিযানে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাও হয়েছে।
এদিকে ২০১৭ সালে সারা দেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে গঠিত এটিইউও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই দুই ইউনিটের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ আরও প্রকাশ্যে আসে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন “মায়ের ডাক” অভিযোগ করে, এসব ইউনিটে গোপন বন্দিশালা ছিল এবং সেখানে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো।
গুমসংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও সিটিটিসি ও এটিইউর বিরুদ্ধে গোপন আটক কেন্দ্র পরিচালনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, শুধু নাম পরিবর্তন নয়—অভিযুক্ত সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, দুই ইউনিটের কাজের ধরনে মিল থাকায় একীভূত করার আলোচনা আগে থেকেই ছিল। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে সরকার।
সূত্র জানায়, নতুন “স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট” থেকে “জঙ্গিবাদ”, “উগ্রবাদ” কিংবা “সন্ত্রাসবাদ” শব্দগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে অতীতের বিতর্কিত ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কাঠামোয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।




