ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা দেড় দশকে ৯ গুণ বেড়েছে

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 দেশের বিদ্যুৎ খাতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ এখন বড় ধরনের আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। গত দেড় দশকে এ বাবদ ব্যয় প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার বিদ্যুৎ বিলেও।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত থাকলেও উৎপাদন না করলেও নির্ধারিত সক্ষমতার বিপরীতে যে অর্থ সরকারকে দিতে হয়, সেটিই ক্যাপাসিটি চার্জ। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থায়ী ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন খরচ বিবেচনায় এই চার্জ নির্ধারণ করা হয়।
পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এবং আমদানি নির্ভরতা মিলিয়ে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে গড় চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের নিচে থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত সক্ষমতা থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে এই অতিরিক্ত সক্ষমতা এখন আর সুবিধা নয়, বরং আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক কেন্দ্র উৎপাদন না করলেও সরকারকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রায় ২ টাকা ৩৫ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ টাকার বেশি। চলতি ও আগামী অর্থবছরের পূর্বাভাসে এই হার আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ১৪ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকারি ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে বলে সংসদীয় ও খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক মহল, বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট একজন মন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং এসব চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তা বাস্তবায়ন জটিল হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে বেসরকারি খাতে যেসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো এখন রাষ্ট্রীয় আর্থিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা চুক্তি পুনর্বিবেচনা, অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বাতিল এবং আইনি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা ও অপচয় তৈরি হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং চাহিদা–উৎপাদন সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই ক্যাপাসিটি চার্জ এখন একটি কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।