কুমিল্লাকে বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বিভাগ ঘোষণা ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম কুমিল্লা সফর।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ইমামদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় সাত হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। জনগণ আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে বলেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।”
বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দুঃশাসনের অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “আজকের গণতন্ত্র সহজে আসেনি। বহু মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, শহীদ হয়েছে, বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু স্বাধীনতা অর্জন করলেই হবে না, দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, কর্মসংস্থান, নারী শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মা-বোনদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যবসায়ীদের নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লাবাসীর দাবির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদি কুমিল্লাবাসীর দাবি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ তা বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। তাই দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ধৈর্য, পরিশ্রম ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক উর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ অন্যান্য নেতারা।
সভায় বক্তারা কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিমানবন্দর চালুর দাবির প্রতি জোর সমর্থন জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। হাজারো মানুষের ঢলে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।




