জলাতঙ্ক টিকার সংকটে দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি, ঢাকামুখী রোগীর চাপ বৃদ্ধি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার তীব্র সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে টিকা না পেয়ে শত শত মানুষ ঢাকায় ছুটে আসছেন। বিশেষ করে কুকুর ও বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, কারণ লক্ষণ প্রকাশের আগেই টিকা না নিলে জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্ক টিকার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ঘাটতির কারণে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পর্যায়ক্রমে ৯ লাখ টিকা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মানুষকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সরবরাহ না থাকায় নিজেদের ব্যবস্থাপনায় টিকা সংগ্রহ করতে হয়েছে। অনেক রোগীকে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনতে হচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। আগে নিয়মিত পরিকল্পনার আওতায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মানুষ নয়, পোষা ও অ-পোষা কুকুর-বিড়ালকে নিয়মিত টিকার আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে জলাতঙ্ক আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের শিকার হন। তাই দ্রুত টিকার সংকট নিরসন ও প্রাণীদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




