ব্রেকিং নিউজ
চীনা বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিলেন তারেক রহমান: ‘বাংলাদেশ হবে এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়’ দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষকের মর্যাদায় আঘাত: শ্রেণিকক্ষে নারী শিক্ষককে মারধর, ক্ষোভে বিদ্যালয় ছাড়ার ঘোষণা টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

“এটা বাণিজ্য চুক্তি নয়, মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা”—আনু মুহাম্মদ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এই চুক্তিকে সরাসরি “বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাম ও প্রগতিশীল ১৩টি দলের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়। এখানে বাংলাদেশ কী করবে, কী করতে পারবে না—সবকিছু একতরফাভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।”
“একতরফা চাপিয়ে দেওয়া নীতি”
আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই চুক্তিতে ঘাটতি বাণিজ্যের যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে বাধ্য করা হচ্ছে বেশি দামে মার্কিন পণ্য কিনতে। এতে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, “চুক্তিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) স্বীকৃত নীতিমালার কোনো প্রতিফলন নেই। এটি পুরোপুরি ক্ষমতার ভারসাম্যহীন একটি কাঠামো।”
নির্বাচনের আগেই স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, “নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়া করে এই চুক্তি করেছে। এটি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করানো যেত।”
তার অভিযোগ, চুক্তি প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত ছিলেন তারা “মার্কিন পক্ষের প্রতি বেশি অনুগত” ছিলেন।
অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তির ফলে—
মার্কিন পণ্যের উচ্চমূল্যে আমদানি
ভর্তুকি ও রাজস্ব ঘাটতি বৃদ্ধি
ওষুধ ও ডেইরি শিল্পে চাপ
আইটি ও ই-কমার্স খাতে অনিশ্চয়তা
গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে ঝুঁকি
শেষ পর্যন্ত এই বোঝা সাধারণ জনগণের ওপরই পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, “যে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে এই চুক্তি করা হয়েছিল, তা পরে মার্কিন আদালতেই বাতিল হয়ে যায়। কয়েক দিন অপেক্ষা করলেই চুক্তির প্রয়োজন হতো না।”
তিনি আরও বলেন, চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতির স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে এবং অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির শর্ত যুক্ত থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা মন্তব্য করেন, “চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন নেই, বরং এটি মার্কিন নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করছে।”
চূড়ান্ত দাবি: চুক্তি বাতিল
সভাপতির বক্তব্যে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের কারণে চুক্তির পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার একটি নথি পাওয়া গেছে।
তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “এই অসম চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন অর্থনীতির জন্য হুমকি। দেশকে রক্ষা করতে হলে এটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”
শেষ কথা
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা একমত হন যে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়—এটি অর্থনীতি, নীতি নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।