বাউফলে সেতুমন্ত্রীর সফরে বিএনপি–জামায়াত উত্তেজনা, হাতাহাতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি |
পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শনে এসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মুখে পড়েছেন যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বাগ্বিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার বিবরণ
মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নদীর দুই প্রান্ত—বগা ও দুমকী এলাকায় পৃথক দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রী ফেরিতে নদী পার হয়ে বগা প্রান্তে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঞ্চের ব্যানারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দ্রুতই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
সংঘর্ষের ঘটনা
এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সমর্থক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
মন্ত্রীর অবস্থান
পরিস্থিতি অবনতির কারণে নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় সেতুমন্ত্রী বগা প্রান্তের মঞ্চে না উঠে সেখান থেকে ফিরে যান। পরে তিনি দুমকী প্রান্তের মঞ্চে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, দুই রাজনৈতিক পক্ষের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি মিছিলের কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে মন্ত্রী নির্ধারিত মঞ্চে না গিয়ে অন্য স্থানে কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বাউফল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ ফিরোজ অভিযোগ করেন, মঞ্চ তৈরির আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং তারেক রহমানের ছবি না থাকায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
উপসংহার
সেতুমন্ত্রীর সফর ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।




